course

ক্যানাডায় সম্পূর্ণরূপে জীবনযাপন করতে হলে ইংরেজী জ্ঞান একটি দৃঢ় স্তম্ভ

ইরেজী কীভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে তা দেখলে সহজেই বোঝা যায়। নানা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান, পর্যটক ও ভ্রমণকারী ইংরেজীকে তাদের সরকারী ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। এই ভাষা একটা জটিল অতীত পেরিয়ে এলেও গণমাধ্যম, হোটেল শিল্প ও ব্যবসা প্রতিটি ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য চিহ্ন রেখেছে।

ক্যানাডা এমন একটা দেশ যা সারা পৃথিবীর তথা সমগ্র জাতির সব মানুষকে স্বাগত জানিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে ৭লক্ষ ৫ হাজার লোক এখানে অভিবাসী হয়েছে।এই দেশের সরকারী দু'টি ভাষা হল ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চ, কিন্তু অধিকাংশ অভিবাসীর এগুলি মাতৃভাষা নয়।  এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও তার সমৃদ্ধ ইতিহাস থেকে এসেছে, প্রথম গড়ে ওঠা স্বদেশ রাষ্ট্র থেকে ফ্রেঞ্চ ও ব্রিটিশ উপনিবেশ দিয়ে এর যাত্রা শুরু। ক্যানাডা যাওয়ার আগে লোকে এই ভাষাগুলো বিশেষ করে ইংরেজী শেখার জন্যে অনেক অর্থ ব্যয় করে। এই দেশে অভিবাসন পেতে হলে ইংরেজো জানা একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচিত হয়, কারণ এটা নবাগতদের কাজ খুঁজতে, ভ্রমণ করতে ও সামাজিক ভাবে মেলামেশা করতে ইংরেজী শক্তি যোগায়। ঈংরেজী ভালোভাবে জানা থাকলে কেবল পেশার জগতেই উন্নতি হবে না ব্যক্তী হিসাবে বেড়ে ওঠার জন্যেও এর সদর্থক ভূমিকা রয়েছে।

২০১৬ সালের জনগণনা অনুযায়ী, ২৯.৯৭ মিলিয়ন ক্যানেডিয়ান ইংরেজী জানে বলে জানিয়েছে যাদের প্রাথমিক সরকারী কথ্য ভাষা ইংরেজী যা সম্পূর্ণ জনসংখ্যার শতকরা ৭৫ ভাগ বা ২৬ মিলিয়নেরও বেশী। এর মধ্যে সমগ্র জনসংখ্যার ২০,১৯৩,৩৪০ জন ক্যানেডিয়ানের বলেছে ইংরেজী তাদের মাতৃভাষার মধ্যে একটি।

ইংরেজী না জানলে ক্যানেডিয়ান সমাজের সুখী সদস্য হওয়া বা কর্মঠ হওয়া বেশ কষ্টকর।  এখানে টরন্টো, মনট্রিট, ভ্যানকোভাযারারের মত অনেক সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী ও  নবাগত রয়েছে যারা নিজেদের সমাজে সংঘর্ষ করছে, অন্য ক্যানেডিয়ানদের মত এরা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা না-ও পেতে পারে।

ইংরেজী বলার দক্ষতা বাড়লে অভিবাসীদের চাকরীর হারও বাড়ে। ইংরেজীতে অধিক দক্ষ নবাগতরাও তাদের পছন্দমত কাজ খুঁজে পায়। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে ইংরেজী ভাষায় যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে শুধু পেশার ক্ষেত্রেই মানুষের ক্ষতি হয় না ব্যক্তিগত জীবনেও অসুবিধা দেখা দেয়। সমাজে ভাষার যেহেতু একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাই সেই সমাজের ভাষা শিখে নেওয়াটা ভালো। সমাজে ঠিকমত বার্তালাপ করতে পারলে, সংযোগ স্থাপন করতে পারলে বা পরস্পর যোগাযোগ রাখতে পারলে মানুষের উপর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সমাজে নিজের স্থান করে নেওয়া সুবিধাজনক হয়।

ভাষা-দক্ষতার গুরুত্ব

ক্যানেডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে গেলে ইংরেজী বা ফ্রেঞ্চে দক্ষতা থাকাটা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। আপনি যেখানে থাকেন সেখানকার বেশীর ভাগ লোক এই দু'টি ভাষার মধ্যে কনটিতে বেশী কথা বলে তার উপর নির্ভর করে। ইংরেজীতে ভালো দক্ষতা থাকলে ক্যানেডায় নাগরিকত্ত্ব পাওয়াও সহজ হয়ে যায়। আপনি যদি সরকারী ভাষায় কথা বলতে পারেন তাহলে অন্য একটি ভাষা শেখার কথা ভাবুন। দু'টো ভাষায় কথা বলতে পারলে কাজ খুঁজে পেতে ও সমাজে অংশগ্রহণ করতে সুবিধা হবে। উভয় ভাষায় কথা বলতে পারলে পেশা ও ব্যক্তিবৃত্তের পরিধি যেমন বাড়ে তেমনি সেই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক মানুষদের সঙ্গে বার্তালাপও সুবিধাজনক হয়।

কাজের জন্যে ভাষা-দক্ষতা

অভিবাসনের জন্যে ইংরেজো অথবা ফ্রেঞ্চ দরকার হলেও আপনার কর্মক্ষেত্রে তা যথেষ্ট না-ও হতে পারে। অধিকাংশ কাজেই আপনাকে এই ভাষাগুলিতে সাবলীল হতে হবে, তবে কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত যথেষ্ট জ্ঞানও থাকতে হবে ও ক্যানেডায় ব্যবহৃত কিছু কিছু অভিব্যক্তি ও শব্দবন্ধও আপনাকে জানতে হবে। ক্যানেডা, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজীর যে কোন একটি কথ্য ভাষা ব্যবহৃত করে, তবে শব্দ বা বুলির অভিব্যক্তিতে কিছু তারতম্য দেখা যায়। কাজের জন্যে এই দেশে অভিবাসী হতে হলে ইংরেজী জানা প্রাথমিক প্রয়োজন। এমন অনেক পরীক্ষা আছে যাতে অংশ গ্রহন  করে বিশেষ একটি ভাষার অভিজ্ঞান পত্র পাওয়া যেতে পারে।

ভাষা-পরীক্ষার নানান মান্যতাপ্রাপ্ত উপায় রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু হলঃ

১) ইন্টারনেশন্যাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্স্টেম (IELTS)

২) ক্যানেডিয়ান ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোফিসিয়েন্সি ইন্ডেক্স প্রোগ্রাম (CELPIP)

৩) টেস্ট অফ ইংলিশ য়্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ (TOEFL) (সাধারনতঃ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এর প্রয়োজন হয়)

যেহেতু ক্যানেডা পৃথিবীর মধ্যে একটি অগ্রগণ্য দেশ, তাই ক্যানেডায় ব্যবসার ভাষা হলইংরেজী। এটাই হচ্ছে প্রধাও ভাষা, তাই মানুষের এই ভাষায় জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। বিশ্বের কর্র্মীদলে যোগ দেওয়ার জন্যে এটিই মূল চাবিকাঠি। এয়ার বাস, ফার্স্ট রিটেলিং, নোকিয়া, রেনল্ট, সামসুং, এস. এ.পি, টেকনিকালার ও মাইক্রোসফ্ট ইত্যাদি বিশ্ব সংস্থাগুলি ইংরেজীকে তাদের সংস্থার ভাষা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া, ২০১০ সালে এমাজন ও ই-বে-র জাপানী সংগোষ্ঠী রেকুটেন তাদের ৭১০০ জন জাপানী কর্মচারীর জন্যে ইংরেজী শেখা অত্যাবশ্যক করে দিয়েছে। কারণ কাজ করার জন্যে তা দরকার।আন্তর্জাতিক বাজারে ইংরেজীর গুরুত্ব অগ্রাহ্য করা বা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কারণ বিশেষ করে ক্যানেডার মত দেশে ইংরেজী আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। অভিবাসীদের কাজের হার তাদের ইংরেজী বলার দক্ষতার সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। নিজেদের পছন্দমত কাজ খুঁজে পেতেও ইংরেজী সাহায্য করে। ক্যানেডিয়ান গভর্নমেন্ট নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মত সমান অধিকারের কথা (স্বাস্থ্যে সবার সমান অধিকার) বললেও, সব সময় বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে একজন অনুবাদক খুঁজে পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তাই ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা থাকলে নবাগতরা উপকৃত হবে। একের অধিক ভাষায় জ্ঞান থাকলে অনুবাদকের প্রয়োজন এড়িয়ে যাওয়া যাবে, কারণ ব্যক্তি নিজেই অনুবাদক হতে পারে। দ্বিভাষী হওয়ার এটি একটি অন্যতম লাভ। 

ঠিকই বলা হয়েছে, ক্যানেডায় সফল হতে গেল ইংরেজী একটি দৃঢ় স্তম্ভ। ইংরেজী জানা মানে এই নয় যে মাতৃভাষার সংস্কৃতি ও পটভূমিকে ভুলে যাওয়া। এটা একটা নোতুন মুল্যবান দক্ষতার সংযুক্তি যা নবাগতদের স্থানান্তর অনেক সহজ করে দেয়।