course

জার্মান ভাষার ইতিহাস

ইন্দো-জার্মান ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হল জার্মান। এটি জার্মানী, অস্ট্রিয়া, লেচস্টেনিটেইন, সুইজারল্যাণ্ড, বে্লজিয়াম, লাক্সেম্বার্গ তথা ইউরোপ ইউনিয়নের সরকারী ভাষা। মধ্যযুগের শুরুতে জার্মান ব্যঞ্জন পরিবর্তনেরমধ্য দিয়ে এই ভাষার যাত্রা শুরু। মাইগ্রেশনের সময় পুরাতন জার্মান কথ্য ভাষা প্রাচীন স্যাক্সন থেকে আলাদা হয়ে যায়। 

ষষ্ঠ শতাব্দীর এল্ডার ফুথার্কের বিক্ষিপ্ত খোদাই থেকে প্রাচীন জার্মানের প্রারম্ভিক কালের প্রামাণ্য সাক্ষ্যপত্র পাওয়া যায়। সুসংহত প্রাচীন রচনা নবম শতাব্দী থেকে শুরু।

কয়েক দশক সময় ধরে জার্মান নানান রাজ্যে ভাগ হয়ে যায়। হোলি রোমান এম্প্যায়ারে জার্মান -ভাষী অঞ্চল এলেম্যানিক, বাভারিয়ান, ফ্রাঙ্কিশ, স্যাক্সন ও ফ্রিসিয়ানে বিভক্ত হয়। সেই সময়ের লেখকেরা এমন ভাবে লিখতে চেষ্টা করেছিলেন যাতে সেই ভাষা সম্ভাব্য সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের লোকেরা বুঝতে পারে।

জার্মান ভাষার ইতিহাসে মুলতঃ তিনটি সময়কাল:

১। প্রাচীন জার্মান (c. 750 – c. 1050)

২। মধ্য জার্মান   (c.1050 – c.1500);

৩। আধুনিক জার্মান (c.1500 থেকে আজ পর্যন্ত)।

প্লেইং পিরিয়ডে কোন উন্নত ভাষা ছিল না। জার্মান ব্যঞ্জন পরিবর্তনের সাথে সাথে  নিয়মবদ্ধতা প্রভাবিত হয়। ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে, জার্মানের অদ্ভূত ব্যঞ্জনাত্মক রীতি বাকী সমস্ত পশ্চিমী জার্মানী ভাষা থেকে আলাদা থেকে যায়। তবে এ কথা মানতে হবে যে, প্রাচীন জার্মানের ব্যাকরণ-বিধি অনেকটা প্রাচীন ইংরেজী, প্রাচীন ওলোন্দাজ ও প্রাচীন স্যাক্সনের ব্যাকরণ বিধির মতই। স্বরাঘাতহীন পদের অংশে স্বরবর্ণ কমে যাওয়ার ফলে একাদশ শতাব্দীর মধ্যকালে জার্মানের বিভক্তি-বিষয়ক ব্যাকরণ সহজ হয়ে যায়। সেই জন্যে ১০৫০-কে জার্মানের মধ্যবর্তী কাল বলে গণ্য করা হয়।

মধ্যবর্ত্তীকালে সরকারী স্তরে লিখিত ভাষায় তুলনামূলক ভাবে একটা একই ধরণের লিখিত ভাষা উন্নত হয়।  কিন্তু মধ্যকালের জার্মানের কোন উন্নত বানান ছিল না। মধ্যকালের কিছু কিছু কথ্য ভাষার নানান ধরণের সংমিশ্রণ ল্যাটিনের স্থান গ্রহণ করে যা লিখিত ভাষায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিষয় বস্তু লেখা হত গোথিক মাইনাসকিউলস-য়ে রোমান হরফে।

প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল:

১) স্বরবর্ণের দৈর্ঘ্য চিহ্নিতকরণ ছিল না

২) অভিশ্রুতি চিহ্নিতকরণ ছিল না

৩) মূল রচনায় অর্দ্ধ্বস্বর  /j/ এবং /w/ ব্যবহার।

পশ্চিমী লো স্যাক্সন ও পূর্বী লো স্যাক্সনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মধ্য স্যাক্সন ভাষা বলা হত ১১০০ থেকে ১৫০০ পর্যন্ত। দক্ষিণের মধ্যে পশ্চিম ও মধ্য জার্মানের মধ্যে ডাচ ছিল প্রতিবেশী ভাষা পরবর্ত্তীকালে যা প্রারম্ভিক নোতুন জার্মানে (Early New German) বদলে যায়।

নোতুন জার্মানের প্রারম্ভকাল মার্টিন লুথারের বাইবেল অনুবাদের সময় থেকে শুরু  (১৫২২ সালে নিউ টেষ্টামেণ্ট ও ১৫৩৪ সালে ওল্ড টেষ্টামেণ্ট)। এই কাজ ততদিন ধরে উন্নত ভাষাকেও সমর্থন করেছিল ও ব্যাপকভাবে বোধগম্য হয়েছিল। বাইবেলের সঙ্গে প্রতিটি স্থানীয় অঞ্চলের জন্যে একটি অতিরিক্ত  তালিকা ছিল। এই তালিকায় ছিল অপরিচিত শব্দের স্থানীয় কথ্য ভাষায় অনুবাদ। রোমান ক্যাথলিকরা তাদের নিজস্ব মান অনুযায়ী তৈরী করেছিল যা প্রোটেষ্ট্যাণ্ট ক্যা্থলিকের চেয়ে একটু আলাদা। কেবল অল্প কিছুটা বিস্তৃত। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্ত্তী সময়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত একটা মান তৈরী হয়ে গেছিল। এটাই ছিল নোতুন জার্মানের প্রারম্ভকালের শীর্ষবিন্দু।

১৮০০ শতাব্দী পর্যন্ত আদর্শ মানের জার্মান প্রায় পুরোপুরি লিখিত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নানা বিশিষ্ট লেখক আধুনিক মানের জার্মানকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন--চার্চ ও রাজ্যের ভাষাকে, শিক্ষা ও সাহিত্যের ভাষাকে। লিখিত আদর্শ মানের ভাষা কথ্য জার্মানকে প্রভাবিত করেছিল, শিক্ষা, নাটক ও সম্প্রচারে প্রয়োগ হয়েছিল। জার্মানের এমন অনেক কথ্য ভাষা আছে যা আদর্শ জার্মান থেকে কেবল উচ্চারণেই পৃথক নয়, ব্যাকরণগত ভাবেও পৃথক। 

লেক্সিকান জার্মানের সর্বপ্রথম সর্বাত্মক পথপ্রদর্শক হিসাবে থেকে গেছে ব্রাদার্স গ্রিমের প্রথম অভিধান। ১৮৫২ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত এটি ষোলো খণ্ডে বেরিয়েছিল। ব্যাকরণ ও বানান সম্পর্কিত নিয়ম প্রথম দেখা যায় ১৮৮০ সালে ডুডেন হ্যাণ্ড্বুবুকে। একেই জার্মানের গুণগত আদর্শ মান বলে ঘোষণা করা হয়। জার্মান বানান সংস্কার সরকারি ভাবে ১৯৯৬ সালে জার্মান, অষ্ট্রিয়া, লিচটেনষ্টেন, ও সুইজারল্যাণ্ডের সরকারী প্রতিনিধি দ্বারা সরকারী ভাবে ঘোষণা করা হলেও ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত আদর্শ জার্মানের বানান পদ্ধতি পরিমার্জন হয় নি।

জার্মানের মূল

লো জার্মান

সেকেণ্ড জার্মান সাউণ্ড শিফ্ট-এর ধনিগত পরিবর্তনের ফলে জার্মান ইন্দো-ইউরোপীয়ন শাখার (যার অন্তর্গত ছিল ইংরেজী, ডাচ, স্ক্যাণ্ডেনেভিয়ান, ও বর্ত্তমানে লুপ্ত গোথিক) জার্মানিক শাখা থেকে সরে যায়। আধুনিক জার্মান শব্দের সঙ্গে তার সমগোত্রীয় ইংরেজী শব্দের তুলনা করলেই এর প্রভাব ধরা পড়ে: pound>Pfund; pipe>Pfeife; hope>hoffen; apple>Apfel, ইত্যাদি।  

সেকেণ্ড জার্মান সাউণ্ড শিফ্ট জার্মানীকে একটা ক্ষুদ্র উত্তর অংশে (সেকেণ্ড সাউণ্ড শিফ্ট ছাড়াই) ও দক্ষিণ অংশে (সেকেণ্ড সাউণ্ড শিফ্ট ছাড়াই) ভাগ করে দেয়। জার্মানের যে অংশে সেকেণ্ড জার্মান সাউণ্ড শিফ্ট ছিল না সেটা হল নর্থ জার্মান লো ল্যাণ্ড্স। তাদের ভাষার নাম লো জার্মান। এই ভাষা জার্মান থেকে বেশ আলাদা।

অনেক কথ্য ভাষায়ও জার্মান আসে, যা সাধারণত পারস্পরিক বোধগম্য নয়। ডাচ ও তার বেলজিয়াম ঘরাণার ফ্লেমিশ নেদারল্যাণ্ডের মধ্যে ও বেলজিয়ামের সরকারী ভাষা (এর সঙ্গে জার্মানীর উত্তরের লো জার্মানের ভাষার নিবিড় সম্পর্ক;) ডাচ ঔপনিবেশিকদের বলা ডাচ ভাষা থেকে উদ্ভূত আফ্রিকান্স দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিকদের ভাষা। লাক্সেমবার্গিশ লাক্সেমবার্গ ও য়িড্ডিশের রাজনোইতিক ভাষা যা মধ্য জার্মান থেকে আগত এবং এখন এই গ্রহের কয়েক লক্ষ মানুষ এই ভাষায় কথা বলে।

প্রাচী্ন, মধ্য ও আধুনিক জার্মান

ঐতিহাসিক ভাবে জার্মানের মূল তিনটি সময়কাল: প্রাচীন জার্মান (c. AD 750-c.AD 1050);  মধ্য জার্মান (c.1050-c.1500); ও আধুনিক জার্মান (c.1500 ্থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত)। জার্মানে সর্বপ্রথম রচনার অস্তিত্ব পাওয়া যায় 750 AD-র আগে। এই প্লেয়িং পিরিয়ডে স্থানীয় কথ্য ভাষাকেই লেখায় ব্যবহার করা হত। তখন কোন আদর্শ মানের ভাষা ছিল না।মধ্যযুগের সময় হোলি রোমান সাম্রাজ্যের নানান মন্ত্রীত্বের পর তুলনামূলক ভাবে একটা একই রকম লিখিত ভাষার উদ্ভাব হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ল্যাটিনের পরিবর্ত্তে  মধ্য জার্মানের কিছু কিছু কথ্য ভাষার সংমিশ্রণ সরকারী ভাষাকে প্রভাবিত করে।

স্যাক্সনের মন্ত্রীত্বের সময় জার্মান লুথারের বাইবেল অনুবাদ মেনে নিয়েছিলেন।  সেই সময় বিভিন্ন কথ্য ভাষার সংমিশ্রণে মন্ত্রীদের ভাষাই একটা নিয়মবদ্ধ রূপ পেয়েছিল। এবং লুথার ভেবেছিলেন এর মাধ্যমে তিনি অধিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।

আধুনিক কাল, বলা হয়, বিশেষ করে শুরু হয়েছিল লুথার দ্বারা নিযুক্ত কর্মচারীদের দ্বারা। এটাই বর্তমান জার্মানেরধারণা বা আধুনিক জার্মান। লিখিত জার্মানের সমরূপতা সেই সব মুদ্রকদেরও সাহায্য করেছিল যারা লুথারের মত যত বেশী সম্ভব পাঠক আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিভিন্ন বিশিষ্ট লেখক আধুনিক আদর্শ জার্মানকে প্রয়োজন মত আজকের রূপ দিয়েছিলেন। এখন এটি চার্চ ও রাজ্যের ভাষা, শিক্ষা ও সাহিত্যের ভাষা। কথ্য জার্মানের একটা সংশ্লিষ্ট রূপও লিখিতি ভাষার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শিক্ষা, নাটক ও সম্প্রচারে প্রয়োগ হয়েছিল।

জার্মান ও লো র্জার্মানের মধ্যে কথ্য ভাষার পার্থক্য থাকলেও ব্যাপক সম্প্রচার, এককভাবে না থাকা ও ব্যাপক সামাজিক-অর্থনৈতিক চলমানতার জন্যে আদর্শ মানের একটা লিখিত ভাষায় সামঞ্জস্য রক্ষা করার বিধি নির্দ্ধারিত হয়েছে।

জার্মান ভাষা, সংস্কৃতি ও শিষ্টাচার

তথ্য ও পরিসংখ্যান

  1. অবস্থানঃ  মধ্য ইউরোপ, পরিসীমার মধ্যে আছে অষ্ট্রিয়া ৭৮৪ কিমি, বেলজিয়াম ১৬৭ কিমি, চেক রিপাবলিক ৬৮ কিমি, ফ্রান্স ৪৫১ কিমি, লাক্সেমবার্গ ১৩৮ কিমি, নেদারল্যাণ্ড্স ৫৭৭ কিমি, পোল্যাণ্ড ৪৫৬ কিমি ও সুইজারল্যাণ্ড ৩৩৪ কিমি।
  2. রাজধানীঃ  বার্লিন
  3. আবহাওয়াঃ  শীতপ্রধান ও সামুদ্রিক; শীত ও গ্রীষ্ম ঠাণ্ডা, মেঘাচ্ছন্ন ও ভেজা; মাঝে মাঝে ঠাণ্ডা পাহাড়ী (ফোহেন) হাওয়া বয়।
  4. জনসংখ্যাঃ  ৮২ মিলিয়ন (২০১৯)।
  5. জাতিগত সংরচনাঃ  জার্মান ৯১.৫%, টার্কিশ ৬.১%, অন্যান্য ৬.১% ( বেশীর ভাগ গ্রীক, ইটালীয়ান, পোলিশ, রাশিয়ান, সার্বো ক্রোটিয়ান ও স্পানিশ নিয়ে গঠিত।
  6. ধর্ম:  প্রোটেস্ট্যান্ট ৩৪%, রোমান ক্যাথলিক ৩৪%, মুসলিম  ৩.৭%, অচিহ্নিত ও অন্যান্য ২৮.৩%,
  7. সরকার:  সংযুক্ত প্রজাতন্ত্র
  8. ব্যবসার সংস্কৃতিঃ বিজনেস কালচার কম্প্লেক্সিটি ইনডেক্স-এর মধ্যে একাদশ স্থান। 

জার্মান সমাজ ও সংস্কৃতি


  1. বিভিন্ন বিষয়ে জার্মানকে নকশাবিদ্যায় দক্ষ মনে করা হয়।
  2. আগাম চিন্তাধারা বা একটা নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে কী হতে চলেছে তা জানতে পারাকে এই সংস্কৃতিতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
  3. ব্যবসা ও ব্যক্তি জীবনে সতর্ক পরিকল্পনা এদের জীবনে নিরাপত্তা এনে দেয়।
  4. নিয়ম কানুন আশা-আকাঙ্খা বুঝতে ও সেই মত জীবনে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।
  5. কোন কাজের সঠিক উপায়টা জানা হয়ে গেলে অন্য দিনের জন্যে তা ফেলে রাখার কোন উপায় নেই।
  6. জার্মানরা বিশ্বাস করে মানুষ, স্থান ও বিষয়ের মধ্যে একটা স্পষ্ট পার্থক্য রেখা থাকাটাই সংগঠিত ও শৃঙ্খলিত জীবন যাপনের উপায়।
  7. কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন কঠোর ভাবে বিভাজিত
  8. সমস্ত কাজের জন্যে একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। কাজ শেষ হয়ে গেলে আপনি অফিস থেকে যেতে পারেন। অফিস বন্ধের পরও যদি আপনি থাকতে চান তার মানে আপনি ঠিকমত আপনার কাজের পরিকল্পনা করতে পারেন নি।

জার্মানদের বাসগৃহ

বাসগৃহ জার্মানদের কাছে বিরাট গর্বের।

  1. খুব কম সময়ের মধ্যেই জার্মানরা তাদের ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখে, সব জিনিষ যথাস্থানে থাকে।
  2. জার্মান সংস্কৃতিতে প্রায় সমস্ত যোগাযোগই আনুষ্ঠানিক, তবে ঘরে আপনি আরাম করতে পারেন বা আপনার ব্যক্তিগত বিকাশ ঘটাতে পারেন।
  3. ঘরের পবিত্রতার মধ্যে কেবল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনরাই আমন্ত্রিত হন, তাই এখানেই অনৌপচারিক কথাবার্ত্তা হয়।
  4. ঘরের বাইরে চারদিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে অলিখিত কিছু নিয়ম থাকে।
  5. সাধারণের স্থানগুলো যেমন, ফু্টপাথ, চলার রাস্তা, দালান (এপ্যার্টমেণ্টে), সিঁড়ি ইত্যাদি কম সময়ের মধ্যে পরিষ্কার রাখা বাধ্যতামূলক।

উপহার দেওয়ার রীতি

  1. যদি আপন কোন জার্মান বাড়ীতে নিমন্ত্রিত হন, তাহলে চকোলেট বা ফুল উপহার হিসাবে নিয়ে যান।
  2. হলুদ গোলাপ বা টী-রোজ সবসময় সাদরে গৃহীত হয়।
  3. লাল গোলাপ কখনো দেবেন না কারণ তা ভাবাবেগ প্রবণ।
  4. লিলি বা চন্দ্রমল্লিকাও দেবেন না যেহেতু তা মৃতদাহে ব্যবহার করা হয়।
  5. যদি আপনি মদ আনেন তাহলে সেটা যেন ইটালী বা ফ্রেঞ্চ থেকে আমদানী করা হয়ে থাকে।
  6. উপহার পাওয়ার সময়েই খোলা হয়ে থাকে।

রাত্রিকালীন আহারের রীতি

আপনি যদি কোন জার্মান বাড়িতে নিমন্ত্রিত হোন:

  1. যথাসময়ে পৌঁছাবেন, কারণ নিয়মানুবর্ত্তিতা ঠিকমত পরিকল্পনার দ্যোতক। কখনো তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবেন না।
  2. টেলিফোনে না জানিয়ে কখনো ৪৫ মিনিটের দেরীতে পৌঁছাবেন না।
  3. পরের দিন আমন্ত্রণকর্ত্তাকে তাঁর আতিথেয়তার জন্যে হাতে লিখে "আপনাকে ধন্যবাদ" জানান।

টেবিল রীতি

  1. বসার জন্যে আমন্ত্রণ না করা পর্যন্ত বসবেন না, আপনাকে একটা নির্দিষ্ট আসনই দেখানো হবে।
  2. টেবিলের রীতিনীতি মহাদেশীয়--খাওয়ার সময় বাঁ হাতে ফর্ক ও ডান হাতে ছুরি ধরা হয়।
  3. ততক্ষণ খাওয়া শুরু করবেন না যতক্ষণ আমন্ত্রণকর্ত্তা শুরু করছেন ্না অথবা কেউ "গুটেনেপেইট" (ভালো ক্ষিদে পেয়েছে) না বলছে।
  4. বিরাট ভোজে আমন্ত্রণ কর্ত্তাকে প্রথমে তাঁর কোলে তোয়ালে রাখতে দেন, তারপর আপনি নিজে রাখবেন।
  5. টেবিলের উপর কনুই ঠেকিয়ে ভর দেবেন না।
  6. স্যালাডের জন্যে লেটুস কাটবেন না, ফর্ক ও ছুরি দিয়ে তা মুড়ে নেন।
  7. ফর্ক দিয়ে খাবারের যতটা সম্ভব বেশী পরিমাণ একসঙ্গে কাটুন কারণ এর ফলে খাদ্য নরম হয়েছে বলে রাঁধুনিকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হবে।
  8. আপনার থালার সব কিছু শেষ করে দেন।
  9. রোলস নিজের হাতে টুকরো করুন।
  10.  আপনার ফর্ক ও ছুরি থালার যথাস্থানে সমান্তরাল ভাবে রেখে বুঝিয়ে দেন আপনি আপনার খাওয়া শেষ করেছেন।
  11. আমন্ত্রণ কর্ত্তাই প্রথমে টোষ্ট দেন।
  12. সম্মানীয় অতিথি আহারের ফাঁকে টোষ্টটা ফেরৎ দিয়ে দেন।
  13. মদের সঙ্গে সবচেয়ে সাধারণ টোষ্ট হল "জুম ওয়াহ" ('ভালো স্বাস্থ্য')।
  14. বীয়ারের সঙ্গে সাধারণ টোষ্ট হল 'প্রোষ্ট'  ('ভালো স্বাস্থ্য')।

জার্মানের ব্যবসায়িক শিষ্টাচার ও আদবকায়দা

সম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপন


  1. ব্যবসার ক্ষেত্রে জার্মানরা ব্যক্তিগত সম্পর্ক চান না।
  2. তাঁরা আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আপনার কোম্পানী কতদিন ধরে ব্যবসা করছে তা জানতে চান।
  3. জার্মানরা নিজেদের কর্ত্তৃত্বকে আলাদাভাবে দেখাতে চান, তাই তাঁদের তুলনায় আপনার যোগ্যতা তাঁদের বোঝা উচিত।
  4. জার্মানরা তাঁদের দরজা খুলে রাখেন না। দরজা বন্ধ করে তাঁরা অফিসের কাজ করেন। তাই ঢোকার আগে কড়া নাড়ুন ও আমন্ত্রণের জন্যে অপেক্ষা করুন।
  5. জার্মানের বাক্যালাপ খুবই ঔপচারিক।
  6. আদব কায়দা অনুসরণ করে এক হওয়া ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা বেশ কষ্টকর।
  7. দল হিসাবে জার্মানরা ফাঁকা আওয়াজ বা শুনতে ভালো অথচ করা কঠিন অথবা আবেগের প্রকাশ সন্দেহের চোখে দেখে। 
  8. জার্মানরা সরাসরি ব্যবসার উদ্দেশ্য জানতে চায়।
  9. সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করতে ও নির্বাচন তথা সিদ্ধান্ত লিখে রাখতে জার্মানরা চমৎকার লিখিত ভাষা আশা করে। 

ব্যবসা সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারের রীতিনীতি

  1. দু' এক সপ্তাহ আগের থেকে সাক্ষাৎসুচি স্থির করতে হবে।
  2. কর্মক্ষেত্রের উচ্চতম আধিকারিককে তাঁর নাম ও ব্যবসায়িক পদ উল্লেখ করে চিঠি লিখতে হবে।
  3. কোন সাক্ষাৎকার নির্দ্ধারণ করতে হলে জার্মানেই লিখতে হবে।
  4. সময়ানুবর্তীতা কঠোরভাবে নজর করা হয়।দেরী হোয়ার সম্ভাবনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোন করুন ও সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করুন। একেবারে শেষ মুহূর্তে কোন সমাবেশ বাতিল করা একেবারে অমার্জিত এবং এতে আপনার হিসাব বিপন্ন হতে পারে।
  5. সাক্ষাৎকার সাধারনত ঔপচারিক হয়।
  6. প্রাথমিক সাক্ষাৎকার একে অপরকে বোঝার জন্যে হয়ে থাকে। আপনি বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তাঁরা আপনার জার্মান বন্ধুকে কাজ করার অনুমতি দিতে পারেন।
  7. সাক্ষাৎকার কঠোরভাবে নির্দ্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী হয় ও যথাসময়ে শুরু ও শেষ হয়।
  8. কথা বলার সময় সরাসরি চোখে চোখ রাখুন।
  9. ইংরেজীতেও কথা বলা যেতে পারে, তবে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্যে একজন অনুবাদককে ভাড়া করাই ভালো।
  10. সমাবেশের শিখরে কিছু কিছু জার্মান টেবিলে তাঁদের আঙ্গুলের গাঁট লাগিয়ে অনুমোদনের বার্ত্তা দেন।
  11. ঘরে প্রবেশ করার সময় কঠোরভাবে আদবকায়দা মেনে চলতে হয়।
  12. সবচেয়ে বয়স্ক বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তি প্রথমে স্থান গ্রহণ করেন।
  13. বয়স ও পদ প্রায় সমান হলে পুরুষরা মহিলাদের আগে প্রবেশ করেন।
  14. ব্যবসার সন্ধিসংস্থাপন
  15. কোথায় বসতে হবে ডেকে না বলা পর্যন্ত আসন গ্রহণ করবেন না। এ ব্যাপারে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। 
  16. সাক্ষাৎকার কঠোরভাবে নির্দ্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী হয় ও যথাসময়ে শুরু ও শেষ হয়।
  17. প্রয়োজন মত বিধি অনুযায়ী পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
  18. জার্মানরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও আমলাতান্ত্রিক।
  19. কথা সংক্ষেপে বলে জার্মানরা ব্যবসার বিষয় লিখে ফেলতে বেশী পছন্দ করে।
  20. ছাপানো বিষয়বস্তু যেন আপনার হাতের কাছেই থাকে--এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকুন।চুক্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।
  21. নিয়মনীতি কঠোরভাবে পালন করে আপনি আপনার বুড়ো আঙুল মোচড়াবেন না বা নিজেকে অসংযত মনে হতে দেবেন না। জার্মানরা সব কিছু বিস্তারিত ভাবে জানতে চায় ও চুক্তি করার আগে সব কটাক্ষ জেনে নিতে চায়।
  22. ব্যবসা হল পদমর্যাদাযুক্ত। সিদ্ধান্ত উচ্চতম পদাধিকারীই নিয়ে থাকেন।
  23. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কঠোর ও সর্বাত্মকভাবে কর্মাণ্বিত হয়, মনে করুন অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা হয়।
  24. বিরোধিতামূলক আচরণ ও কঠোর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল এড়িয়ে চলুন। এতে প্রায় বিপরীত ফল হতে পারে।
  25. কোন কিছু একবার পছন্দ করে নিলে তা পরিবর্ত্তন্প হয় না

পরিচালনা

  1. এ ব্যাপারে বেশী কিছু জানার জন্যে আমাদের "Guide to German Management Culture" পড়ুন।
  2. পোষাক পরিচ্ছদের শিষ্টাচার
  3. ব্যবাসার পোশাক শোভনীয়, ঔপচারিক ও রক্ষণশীল হতে হবে।
  4. পুরুষদের ঔপচারিক তথা ঘন কালো রঙের পোষাক পরা উচিত।
  5. মহিলাদের ব্যবসার স্যুট বা রক্ষণশীল পোষাক পরা উচিত।
  6. জাঁকজমকপূর্ণ গয়না বা আনুসঙ্গিক আভরণ পরবেন না।

ভ্রমণ

জার্মানীদের অনেকেরই আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিরাট আকর্ষণ ও বিদেশে ভ্রমণ করা জীবনধারার এক মহত্ত্বপূর্ণ অঙ্গ। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির চেয়ে জার্মানদের বিদেশ ভ্রমণের খরচ মাথাপিছু অনেক  বেশি। জার্মানদের সবচেয়ে বড় ছুটি কাটানোর লক্ষ্যস্থল হল ইটালী, স্পেন, ও অষ্ট্রিয়া। ন'্টা দেশের সীমারেখার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্যে দেশটাকে ধন্যবাদ। 

খাদ্য ও পানীয়


স্বাস্থ্যকর ও আন্তরিকতাযুক্ত আহারকে কেন্দ্র করেই জার্মানের খাদ্য সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। মাংস জার্মানে খুবই জনপ্রিয়। রুটি ও আলুর সঙ্গে প্রায় প্রতি আহারেই তা থাকে। জার্মানের খাদ্য তালিকায় আছে জাতীয় খাদ্য রৌলেডেন ( Rouleden), জার্মান নুডলস স্পেটেল (Spatale) ও স্ক্নিনৎজেল (Schnitzel)। প্রতিদিনকার আহারের মধ্যে থাকে রান্না করা প্রাতঃরাশ ও লাঞ্চ এবং হাম ও পনীর সহরুটি, সেই সঙ্গে আচারও থাকে। রাতে বাইরে গিয়ে খাওয়া বেশ জনপ্রিয়, ছোট বড় সব শহরেই নানা ধরণের পুষ্টিকর খাদ্য, বেকারীর জিনিষ (জার্মান ও টার্কিশ) ইত্যাদি সহ ছোট বড় অনেক আহার স্থল ভরা।  জার্মান ও আন্তর্জাতিক পানীয় স্থল,  রেষ্টোরেন্ট (বিশেষ করে বড় বড় শহরে), মাঝে মাঝে গজিয়ে ওঠা খাবারের  দোকান ও রাস্তার ধারের খাবার দোকান ক্রমে ক্রমে বেড়েই চলেছে।

ঐতিহ্যশালী পরিধান

জার্মানের ঐতিহ্যশালী বস্ত্রের মধ্যে পড়ে বিশ্ববিখ্যাত লেডারহোসে (Lederhosen), এক সময় গ্রামীণ লোকেদের এটা আউটফিট ছিলো, প্রথাগতভাবে যারা মাঠের কাজ করত বা শারীরিক শ্রম করত। ছোট স্লিভ শার্টের উপর পরা হয় হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ব্রিচেস। লেদারহোসেন প্রথাগতভাবে ব্যাভেরিয়ান ও টাইরোলিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।


মহিলাদের জন্যে প্রথাগত পরিধানের মধ্যে পড়ে ড্রিন্ডল, বডিস, পিনাফোর, ও স্কার্ট দিয়ে তৈরী পোষাক।  এই শার্টের নীচের অংশ কাটা ও ছোট পাফি স্লীভ দিয়ে তৈরী। আজকাল ক্ষেত মজুরদের এই পোষাকে দেখা যায় না, বরং পানীয় উৎসবে কর্মচারী ও পার্টির লকেরা এই পোষাক পরে।

জার্মানের ধর্ম


জার্মানের শতকরা ৬৫ থেকে ৭৫ ভাগ লোক নিজেদের খৃষ্টান বলে, এর মধ্যে শতকরা ২৯ ভাগ হল ক্যাথলিকস। ৪.৪% মুসলিম সম্প্রদায়ের। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শতকরা ৩৬ ভাগ লোক খৃষ্টান বা মুসলমান বলে নিজেকে বলে না বা অন্য কোন ধর্মেরও নয় তারা।

সঙ্গীত

বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত রচয়িতা ব্রাচ ও বীথোভেন যিনি ধ্রুপদী ও রোমাণ্টিক সঙ্গীতের মধ্যে একটা নোতুন যুগ এনে দিয়েছেন তাঁদের জন্ম জার্মানেই। অন্যান্য সঙ্গীত রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম ব্রহ্মস, শ্চুবার্ট, হ্যান্ডেল, টেলেমন, অর্ফ--এঁরাও জার্মানেরই।


আজকাল জার্মানে অনেক সঙ্গীত সমারোহ উৎসব হয়ে থাকে, যন্ত্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে হিপ-হপ ও রক এণ্ড রোল। রক এণ্ড রিং জার্মানের সঙ্গীত গুরুত্ত্বপূর্ণ সঙ্গীত উৎসব যা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম। এখানে পৃথিবীর সব জায়গা থেকেই কলা-কুশলীরা, সঙ্গীত 

পরিবেশনকারীরা ও সঙ্গীতপ্রেমীরা এসে থাকেন। জার্মানে অনেক অপেরা হাউস-ও আছে, এগুলি বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

স্থাপত্য 

দেশটির অনেক আবেগপূর্ণ ইতিহাস আছে, যা তার বিচিত্র ও সমৃদ্ধ স্থাপত্যে ফূটে উঠেছে।  রাজপ্রাসাদ, দুর্গ, চার্চ ও স্মৃতিসৌধে জার্মানের ইতিহাস পরিস্ফূট হয়ে উঠেছে। রঙ্গভূমি, স্পা, ও রোমান সেতুগুলি জার্মানের ঐতিহ্যশালী স্থাপত্যের অংশ--এর মধ্যেই ফুটে উঠেছে জার্মান দেশ। এব্বে ও সেণ্ট মাইকেল চার্চ দশম শতাব্দীরও আগের প্রাক-রোমান স্থাপত্য। আর রোমানস্ক্যু স্থাপত্যের সময় গড়ে শ' শ' চার্চ গড়ে উঠেছিল যা আজও বিদ্যমান। অন্যান্য চার্চের মত কলোগ চার্চও গোথিক যুগে তৈরীপঞ্চদশ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে যে নবজাগরণের উত্থান হয়েছিল তার বৈশিষ্ট্যও হেউডেল্বার্গ দুর্গ বা ডুকেল ল্যাণ্ড্শার্ট রেসিডেন্সে দেখা যায়।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মানীতে বেরোক স্থাপত্যের আবির্ভাব। তার কিছু নিদর্শন হল উর্জ্বার্গ রেসিডেন্স ও অগাষ্টবার্গ দুর্গ যা আজও বর্তমান। এট পর্যটকদের একটি আকর্ষণ স্থলও যা হাজার হাজার পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঐতিহাসিক স্থাপত্যের মধ্যে পড়ে  ড্রেসডেনে সেম্পের অপেরা, শেরিন রাজপ্রাসাদ ও আলম চার্চ। আজকের  কেতাদুরস্ত যুগে এতে আইনষ্টাইন টাওয়ার, বার্লিন মডার্ণিজম হাউসিং এস্টেট ও গ্লিউইম রেডিও টাওয়ারও আছে।

কলা


পাশ্চাত্য কলার উন্নয়ন ও গঠনে জার্মান কলার এক গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, বিষেষ করে সেইটিক আর্ট, কেবোলিঙ্কিয়ান আর্ট ও অট্টোনিয়ন আর্টের। গোথিক ধারায় চিত্রকলা ও স্থাপত্য জার্মান সহ সমগ্র ইউরোপে বিখ্যাত ছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীর বিশেষত্ত্ব ছিল অল্টারপিসের (altarpiece) পরিকল্পনা। বংশানুক্রমে জার্মান শিল্পিরা নিও-ক্লাসিজিম-এর মত বেরোক ও রোকোকোতেও তাঁদের দক্ষতা দেখিয়েছেন। ভাবাবেগপূর্ণতা জার্মান কলার এক অতিরিক্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ অংশ। পূর্বের কিছু বিখ্যাত জার্মান চিত্রকলার মধ্যে আছে ফ্রাঞ্জ স্টাফের "The Sin", ক্যাস্পার ডেভিড ফ্রেড্রিচের "Wonderer above the Ocean of Fog", এডলফ্ ম্যাঞ্জেলের "Studio Wall", ও ম্যাথ্নিয়াস গ্রুনেওয়ালভের "Heller Altapiece" ইত্যাদি।

মৃতদেহ সৎকার

মৃতকে অন্য চোখে দেখা সমস্ত সংস্কৃতিতেই আছে। জার্মানে মৃত্যুর ৩/৪ দিন পর শব সৎকার করা হয়। ততদিন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা মৃতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে থাকেন। সৎকারের প্রথম দিন থেকেই একজন পুরোহিত ও মিনিষ্ট্রাণ্ট কালো ও বেগুনী ফিতা পরে অংশগ্রহণ করেন। কবর দেওয়ার আগে মৃতদেহকে চার্চে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে পুরোহিত শোকগাথা বলে কফিনে জল ছিটিয়ে দেন। তারপর ঘণ্টাধ্বনি হলে শোকপালনকারীরা কফিন নিয়ে শ্মশানে যান ও কবরে মৃতদেহ রাখেন। পুরোহিতের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রার্থনা শেষ হলে মৃতের প্রিয়জনেরা শেষ বিদায় জানিয়ে কফিনের মাটিতে চাঁদোয়া তুলে দেন।

জার্মানের শিক্ষাব্যবস্থা

জার্মানের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। বিশ্বের বিশ্ব বিদ্যালয়ের 

(ARWU)-র টিউটরিয়াল রেঙ্কিং-এর সমতুল্য।

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ এক শ' বিশ্ব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টি ও দু' শ'-টির মধ্যে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় জার্মানে। এখানে পড়লে আপনি বিশ্বের প্রাচীনতম ও প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলির মধ্যে যে কোন বিদ্যালয়ে স্থান পাবেন।  

সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়

জার্মানে ৪০০টা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আছে কলেজ ছাত্রদের মধ্যে ৯৫% এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারী আনুকূল্যে চলে, অর্থাৎ ছাত্রদের কোন টিউশন ফী দিতে হয় না (কেবল প্রতি সেমিষ্টারের আগে অল্প কিছু পরিচালন খরচ দিতে হয়)। ১২০টার মত বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও আছে। এরা সরকারী সাহায্য পায় না বা রাজ্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিতও হয় না। অর্থাৎ এদের নিজস্ব টিউশন ফী-র ব্যবস্থা আছে।

ল্যাংমার (Langma) ভাষা স্কুলে জার্মান কেন শিখবেন?

সারা পৃথিবী জুড়ে ১০০ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ জার্মানে কথা বলে। এবং ইংরেজীর পর এটাই সাধারনত দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা। জার্মান ভাষা শিখলে জার্মানী, অষ্ট্রিয়া, সুইজারল্যাণ্ড, ও এই  গ্রহের অন্যান্য অঞ্চল যেখানে জার্মান রাজনীতিকদের ভাষা হিসাবে গণ্য হয়, আপনার ব্যবসা করার দরজা খুলে যাবে।

এমন কি পোল্যাণ্ড ও ইটালীর মত কিছু অপ্রত্যাশিত অঞ্চলেও জার্মানের কথ্য ভাষা আছে।  জার্মান অনুপ্রবেশকারীরা ইউনাইটেড স্টেটসকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। জার্মান ভাষার শিক্ষাক্রম আপনাকে কেবল একটা পরিবর্ত ভাষা শেখার জন্যেই মানসিক প্রেরণা জোগাবে না জার্মান-ভাষীদের সঙ্গে ব্যবসা করতে ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেও সাহায্য করবে।   

ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ ইত্যাদি ভাষা শিক্ষার আবেগেজার্মানের কথা আমরা সাধারনত ভুলে থাকি, কিন্তু জার্মান পছন্দ করার পেছনেওও অনেক কারণ আছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের তিনটি সরকারী ভাষার মধ্যে এটি অন্যতম।এবং ইউরোপ সবচেয়ে বেশী এই মূল ভাষায় কথা বলে। জার্মানের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ অর্থনীতি ইউরোপে, তাই জার্মান বলতে পারলে ব্যবসার অনেক সুযোগ খুলে যাবে। জার্মানীতে এমন অনেক উৎকৃষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে প্রায় বিনা খরচে জার্মান শেখা যায়।

জার্মানকে সাধারণত একটা কঠিন ভাষা হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আপনার যদি ইংরেজী জানা থাকে তাহলে আপনি অনেক কিছুই বিনা পরিশ্রমে পেয়ে যাবেন, কারণ দুটোই জার্মানিক ভাষা। এদের মধ্যে অনেক মিল থাকায় আপনার শব্দসম্ভার অনেক বেশী সমৃদ্ধ হবে। এছাড়া আপনি যদি ডাচ বা সুইডিশ জেনে থাকেন তাহলে জার্মান উচ্চারণও সহজ হবে।

আমাদের ব্যাপক সান্ধ্য শিক্ষাক্রম আপনাকে শুরু থেকে জার্মান শিখতে সাহায্য করবে এবং আপনার  গুরুত্ত্বপূর্ণ দক্ষতার উপর বিশেষ জোর দেবে। যথার্থ শিক্ষাক্রম নির্ভর করে আপনার লক্ষ্যের উপর তাই আপনার প্রত্যাশাও সন্তোষজনক হওয়া দরকার। আপনার সমস্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিয়ে আমরা আপনার উপযুক্ত শিক্ষাক্রম নির্বাচন করতে সাহায্য করার জন্যে তৈরী আছি। আমাদের সমস্ত শিক্ষাক্রম মুক্ত পরিবেশে হালকা মনে শেখানো হয় ও সেইমত আপনাদের সাহায্য করার জন্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। আমরা আপনাকে স্বাগত করার অপেক্ষায় আছি। আমরা নিয়মিত ভাবে ছোট ছোট দলের শিক্ষাক্রম তৈরী করে থাকি এবং সান্ধ্য শিক্ষাক্রমই সবার শেষে হয়ে থাকে। জার্মানের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে এই শিক্ষাক্রম বিশেষভাবে তৈরী--অর্থাৎ শব্দসম্ভার ও ব্যাকরণ থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্ত বিষয়ই এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের জার্মান ভাষা শিক্ষাক্রমে  এক এক জনকে ব্যক্তিগতভাবে শেখানোর ব্যবস্থাও আছে। আপনিও চাইলে সেইভাবে শিখতে পারেন। এতে  DAF টেষ্ট ও telc C1 Hochschule-এর প্রস্তুতিও করানো হয়।

জার্মান ভাষার স্তরগুলি কী কী?

যখন আপনি জার্মান শিখবেন বলে স্থির করবেন তখন দেখবেন বিভিন্ন স্তর থেকে আপনাকে পছন্দ করতে হবে। এখানে সেই রকম কিছু স্তরের উল্লেখ করা হচ্ছে যা সম্ভবত আপনি শিখতে চাইবেন।

  1. A1: জার্মান  A1-স্তরে আপনাকে কী শেখানো হয়। ছ'টি স্তরের মধ্যে এটি সব থেকে নীচের স্তর। এখানে শেখানো হয় প্রাথমিক ব্যাকরণ ও শব্দসম্ভার, এবং দরকার পড়লে চাইল্ড কেয়ারের মত কিছু পেশার প্রয়োজনীয় জিনিষগুলি। এই কোর্সে সময় লাগে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ।
  2. A2: আকারে আরও এগিয়ে যাওয়া।  A2 ছাত্রদের নির্দিষ্ট ভাবে  আরও জটিল বাক্য শেখায় ও শব্দসম্ভার সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। এর জন্যে সব সময় চার থেকে ছ' সপ্তাহ সময় লাগে।
  3. B1: ব্যাপক আলোচনা সহ এতে আরও বেশী ব্যাকরণ শেখানো হয়, প্রায়ই সমসাময়িক বিষয়ের উপর।  এই কোর্স B1.1 এবং B1.2-তে বিভক্ত যা আঠ সপ্তাহের মত সময় লাগে।
  4. B2: জার্মান B2 শেখা কত অভিনব? B2-তে ছাত্ররা প্রাথমিক ভাবে আরও চমৎকার ভাবে লিখিত ও কথ্য জার্মান শেখে, সময় লাগে আঠ সপ্তাহ। এতে রাজনীতি, শিক্ষা এবং কাজের ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হয় ও রচনাশৈলী আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ হয়। তাই অধিকাংশ ছাত্রের B2-তে পৌঁছাতে এক বছরের কোর্সে প্রথম ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহ লাগে।  
  5. C1: ছাত্ররা আরও ৮ সপ্তাহ C1 কোর্স শিখে ও জটিল জার্মান বাক্য বুঝতে ও পড়তে শেখায়। এই সার্টিফিকেট পেলে গোয়েথ পড়া আয়ত্তে এসে যাবে, তাই জার্মান সাহিত্যের অদ্ভূত বিষয়গুলি কেন না আবিষ্কার করা যায়।
  6. C2: এটি হল সবচেয়ে ভালো সার্টিফিকেট। এটি আত্মস্থ করতে বেশ সময় লাগে এবং এক এক জনকে এই কোর্স শেখানো হয়। পেশাদাররা এই কোর্স বেছে নেন। 

পরীক্ষা

আপনি যে স্তরই পছন্দ করুন না কেন, সব ক্ষেত্রে পরীক্ষা এই প্যাকেজের একটা অংশ। পরীক্ষা হয় শোণা, বলা ও লেখা সব মিলিয়ে।  A1 এবং A2-্তে পরীক্ষা তেমন কঠিন নয় তাই প্রশ্নও খুব সহজ  হয়। কিন্তু  A2 থেকে A1 পৃথক। প্রশ্ন কিছুটা কঠিন। তাই জটিল বাক্যের সঙ্গে বড় বড় শব্দও বুঝতে বা ব্যবহার করতে হয়।

  1. B1 স্তরে ছাত্রদের ২০০০ শব্দ জানা দরকার, বাক্যাংশের জ্ঞান, রচনাশৈলীর বলিষ্ঠ উপলব্ধি এবং টিভি মুভির গতিতে জার্মান বলার ক্ষমতা থাকা দরকার।
  2. B2 হল B1-এর অনুরূপ, তবে জার্মান জীবনের কথার উপর বেশী জোর দেওয়া হয়। জার্মানের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক জ্ঞান এখানে সাহায্য করতে পারে, সেইজন্যে বিশুদ্ধতা এখানে একটা আলাদা মোড় নেয়।
  3. C1 এই স্তরে কথ্য ও লিখিত ভাষায় সাবলীলতা থাকা দরকার, এই স্তরে তাই জার্মানের সঙ্গে একেবারে মিলেমিশে যেতে হবে। সুসংবদ্ধ বাক্য গঠন করতে ও জটিল শোণার কাজ করতে অভ্যাসই এখানে নিপুণতা আনে।
  4. সব শেষে C2, C1=কে সম্প্রসারিত প্রবন্ধের মাধ্যমে একটা আলাদা স্তরে নিয়ে যায়। এই স্তরে মোটামুটি ভাবে স্থানীয় জার্মানের মত জ্ঞান থাকা দরকার।

ল্যাংমার অনলাইন জার্মান কোর্স 

এখানে জার্মান ক্লাসের কিছু অতি গুরুত্ত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হল:

  1. ল্যাংমার ভাষা শিক্ষা স্কুলে অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা সরাসরি ক্লাস নিয়ে থাকেন।
  2. নিবিড় পাঠ্য ধারার প্রমাণিত পাঠ্যক্রম ও পাঠ্য বিষয়
  3. বলা, লেখা, পড়া শোনা ও ব্যাকরণ সমস্ত দক্ষতাই অনলাইন জার্মান ভাষা শিক্ষার  কোর্সে এসে যায়।
  4. পড়াশোনা ও গ্রুপওয়ার্কের জন্যে প্রায় ক্লাসরুমের মতই শিক্ষামঞ্চ
  5. অনলাইন কোর্সের সহজ পরিসর থেকে বিভিন্ন ধরণের পাঠ্যক্রম ও সময়কাল উপলব্ধ। যে সব ছাত্ররা জার্মান শেখার জন্যে জার্মান যেতে পারেবেন না অথবা যাঁরা ল্যাংমায় জার্মান কোর্স করার পরও আবার ঘর থেকে উচ্চ মানের জার্মান শিখতে চান তাঁদের এই কোর্স সাহায্য করবে। 
  6. ইন্টেনসিভ জার্মান কোর্স 
  7. ইন্টেনসিভ জার্মান কোর্স সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৫ মিনিটের ৩০টা ক্লাস নিয়ে গঠিত। ভাষা জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রই (পড়া, শোনা, বলা, লেখা ও ব্যাকরণ) এর মধ্যে এসে যায়। আমরা ১০ জন করে ছাত্র নিয়ে গঠিত ছোট ছোট  ক্লাসকে বেশী গুরুত্ত্ব দিই। এই ভাবে ছাত্ররা তাড়াতাড়ি জার্মান ভাষার স্তরগুলি শিখতে পারে।  
  8. ইন্টেনসিভ কোর্সগুলি প্রায় দু সপ্তাহ বা তার বেশী সময়ের জন্যে লিপিবদ্ধ করা হয়। দশ সপ্তাহের বেশী দীর্ঘ কোর্সের জন্যে আমরা একটা অনুকূল কোর্স-ফী নিই। জার্মান কোর্সের A1, A2 এবং B1স্তরগুলি পাঁচ সপ্তাহ কালের,  C1 এবং C2 হল দশ সপ্তাহের।
  9. এই পাতার নীচে দেওয়া "ইন্টেনসিভ কোর্স"-এই শিরোণাম থেকে আপনি আপনার প্রয়োজন মত কোর্স নির্বাচন করুন।

ইন্টেনসিভ কোর্স যা এক একজনকে শেখানো হয়

এক এক জন আলাদা করে শেখানোর কোর্সে ছাত্ররা সপ্তাহে ৪৫ মিনিটের ২৫, ৩০ অথবা ৪৫টা লেসন চয়ন করতে পারে। কোর্সের বিষয়বস্তু প্রতিটি কোর্সের ছাত্রদের প্রয়োজনমত তৈরি করা হয় যাতে বিজনেস জার্মানের মত সাধারনত নির্দিষ্ট বিষয়ও থাকে। এক এক জনকে শেখানোর কোর্সের সময়কাল এক সপ্তাহ বা তার বেশী সময়ের হয়।

পার্ট-টাইম জার্মান কোর্স 

ল্যাংমার ভাষা শিক্ষার স্কুলে পার্ট টাইম কোর্সও আছে। সান্ধ্য জার্মান ক্লাসে প্রতি সপ্যাহে মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ৬টা লেসন শেখানো হয়। সপ্তাহের শেষে শনিবারে ৫টা লেসন থাকে। পার্ট টাইম কোর্স তাদের জন্যে উপযুক্ত যাঁরা পূর্ণকালীন চাকরী করতে করতে  শিখতে চান। জার্মান শেখার A1, A2, B1, B2, C1 এবং C2  স্তরে দু'টো পার্ট টাইম কোর্স থাকে।

শিক্ষার ফলাফল

  1. কিছু কিছু বাক্যগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত মতামত অভিব্যক্ত করার ক্ষমতা বিচারশক্তি প্রয়োগ করার শক্তি এসে যাবে। ছাত্ররা  মোটামুটি CEFR (Common European Framework of Reference for Languages)-এর উপরে B2-স্তরের জ্ঞান আশা করতে পারে।
  2. গৃহশিক্ষকতার কাজে ভাষাকে ব্যবহার করতে পারেন, অর্থাৎ উদ্ধৃতি সহ প্রবন্ধ লেখা, ক্লাস্ উপস্থাপিত করা এবং জার্মান ভাষা ও তার সাহিত্য সম্বন্ধে গবেষণা করা।
  3. জার্মান-ভাষী সংস্কৃতির সাহিত্য, ফিল্ম, ও নানা ধরণের প্রিণ্ট ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার বিষয়বস্তু পড়া, বোঝা ও বিশ্লেষণ করা।
  4. জার্মান-ভাষী দেশগুলোর কেতাদুরস্ত ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান প্রদর্শন করা।
  5. পারস্পরিক সাংস্কৃতিক চেতনা প্রদর্শন করা।
  6. ভাষাতাত্ত্বিক ও পারস্পরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন।
  7. আধুনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সাংস্কৃতিক বিষয়গুলি অধ্যয়ন করে  তা উপস্থাপিত করা।
  8. জ্ঞানার্জনের দক্ষতা ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যেহেতু আপনি আপনার নির্বাচিত ভাষায় বাক্যালাপ করবেন।

জার্মান শেখার পর চাকরির সুযোগ

  1. ইমিগ্রেশন লিয়াজোঁ অফিসার
  2. মাল্টিকালচারইজম্ প্রোজেক্ট অফিসার
  3. পর্যটন বিভাগে নানান পদ
  4. ইন্টারগভর্ণমেন্ট্যাল এফেয়ারস্ অফিসার
  5. কূটনৈতিক, বৈদেশিক ও সাংস্কৃতিক বিভাগে বিভিন্ন পদ
  6. শিক্ষায় ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষকতার সুযোগ
  7. বর্তমান বাজারে জার্মান ভাষার শিক্ষাক্রম এক বিশেষ সম্পদ।